স্ত্রীবচনঃ “আমি তোমার মধ্যে জীবনে ভালো কিছু দেখলাম না!”
সাংসারিক জীবনে শিরোনামের এই “মধুর” কথাটি অথবা এর কাছাকাছি অর্থের কোনো কথা তার প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছ থেকে শোনেননি এমন স্বামী পাওয়া দুষ্কর। স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া হলে এই “প্রিয়” বাক্যটি স্ত্রীরা স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলেনই। তবে যারা বলেন না তাদের স্বামীরা আসলেই এই ক্ষেত্রে সৌভাগ্যবান ভাবতে পারেন নিজেদেরকে আর স্ত্রীরাও ভালোর সাময়িক সার্টিফিকেট পেতে পারেন।
অনেক সংসারেই যা নিয়েই ঝগড়ার উৎপত্তি ঘটুক না কেনো স্ত্রীরা ঝগড়ার এক পর্যায়ে বলবেই যে, “আমি তোমার কাছ থেকে জীবনেও ভালো কিছু পেলাম না”, অথবা বলবে “তুমি আমার জন্য সারাজীবনে কিছুই করলা না”, কিংবা বলবে “তোমার সাথে আমার বিয়েটাই আমার দুর্ভাগ্য। জীবনে কিছুই পাইলাম না”। আমার যেহেতু সরাসরি শোনার অভিজ্ঞতা নেই সেহেতু বাক্যের শব্দের হেরফের হতে পারে। কিন্তু স্ত্রীরা এগুলো বলেন। সবাই বলেন না। অধিকাংশরাই বলেন।
আচ্ছা, আপনার কি মনে হয়, আপনার স্ত্রী এটি এমনিই বলে? অথবা আপনার কি মনে হয়, আপনার স্ত্রী মিথ্যা বলছে? হ্যাঁ, মনে তো হতেই পারে। আপনি যে স্ত্রীকে বিয়ের পর থেকে গত দশ-বিশ-ত্রিশ-চল্লিশ বছর যাবত তার প্রায় সকল প্রয়োজন মিটিয়ে আসার সাধ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তাকে ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে রেখেছেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যার ভরনপোষণের ব্যবস্থা করেছেন, শতকষ্ট থাকলেও তা বুঝতে না দিয়ে যে স্ত্রীর শখ পূরণ করেছেন, নিজের সাধ্য অনুযায়ী সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছেন, সেই স্ত্রী যখন আপনাকে বলবে, “তুমি আমার জন্য সারাজীবনে কিছুই করোনি” তখন কেমন লাগবে আপনার? নিশ্চয় রাগে আপনার পায়ের রক্ত মাথায় উঠবে। হ্যাঁ, ওঠাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যদি জানেন যে, এই কথাটি বলা মেয়েদের অভ্যাসগত ব্যাপার। এটা সৃষ্টিগতভাবে তাদের মধ্যে ইনস্টল করা। তাহলে কি আর ততটা মেঝাজ খারাপ হবে? একটু হলেও কম হবে। তাই না? তখন ভাববেন, থাক, মেয়েরা তো এমন বলেই। বলবেই। ধৈর্যধারণ করি।
তাদের এই কথার উত্তরে যদি আপনি আলমিরা খুলে তাকে দেয়া সোনা-দানা-গহনা,শাড়ি-কাপড়, অন্যান্য জিনিস দেখানো শুরু করেন, আর তার প্রতি করা আপনার অবদানগুলো মনে করিয়ে দিতে শুরু করেন তাহলে তাকে আরো রাগিয়ে দেবেন। কারণ যারা সামান্য ঝগড়া হলেই স্বামীর সারাজীবনের অবদানকে এক কথায় অস্বীকার করতে পারে তারা আপনার অবদানের ফিরিস্তি দেখার বা শোনার অপেক্ষায় এমনটা করে না। আর তাতে তারা সন্তুষ্ট হবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নাই। কারণ স্বামীর অবদানকে অস্বীকার করা অধিকাংশ নারীর অভ্যাস। এটি তাদের মজ্জাগত ব্যাপার। তাই আপনার কাছ থেকে উত্তর শোনার জন্য বা প্রমাণ দেখার জন্য তারা এই কথা বলে না। তারা এই কথা বলে কারণ, এটা বলে তারা শান্তি পায়, মানসিক তৃপ্তি পায়, এটা তাদের অভ্যাস।
আচ্ছা, অনেকেই হয়তো আমার উপরে রেগে ফায়ার হয়ে যাচ্ছেন যে, আমি কেনো নারীদের দোষ নিয়ে সমালোচনা করছি। আমি আসলে সমালোচনা করছি না। আমি তাদের একটা গুণ, অবশ্যই খারাপ গুণ, নিয়ে আলোচনা করছি। আর গুণটি যে নারীদের মধ্যে আছে সেটি আমার কোনো পূর্বধারণা বা কারো গবেষণা থেকে আবিস্কার করা না। এটি নারীদের যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে জানানো তথ্য।
এবার আসি আসল কথায়, কিভাবে জানলাম এই তথ্য,
একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের সামনে বললেন, একদিন আমাকে জাহান্নাম দেখানো হলো, সেদিন জাহান্নামের দৃশ্য এতটা ভয়ংকর দেখেছি যেমনটা আর কখনো দেখিনি। আরেকটা জিনিস আমি জাহান্নামে দেখেছে, আর তা হলো, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীই নারী। এই কথা শোনার পর উপস্থিত সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, কী কারণে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তর দিলেন, তাদের কুফরির (অস্বীকারের) কারণে। তাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হলো, নারীরা কি আল্লাহকে অস্বীকার করার কারণে বেশী জাহান্নামী হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না, তা নয়। তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। এ কারণে বেশি জাহান্নামে যাবে। আরেকটি কারণ হলো তারা স্বামীর অবদানকে অস্বীকার করে। এ কারণেও বেশি জাহান্নামে যাবে। এ কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তোমরা যদি তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সারাজীবন ইহসান করো, দয়া-মায়া দেখাও, বিভিন্ন অবদানে ভরে রাখো তারপরে যদি একদিন তোমার কোনো ভুল সে দেখতে পায় বা তোমার কিছু দেখে যা তার অপছন্দ কিংবা তার কিছু পাওনায় ঘাটতি তৈরি হয়, তাহলে সাথে সাথে তোমাকে বলে উঠবে, “আমি তোমার কাছ থেকে কখনো ভালো কিছু পেলাম না”। (হাদীসখানা সহীহুল বুখারীর ১০৫২ নম্বরে আছে)
আশা করি, হাদীসখানা পড়ার পর আমার ওপর থেকে বোনদের রাগ কমবে। আসলে কী, এখানে সব নারীকে এই অভিযোগের আওতায় আনা হয়নি। এখানে শুধু তাদের কথাই বলেছি যাদের মধ্যে এই গুণটি আছে। আল্লাহর রহমতে যেসব নারীরা স্বামীর অবদানকে অস্বীকার করেন না এবং “তুমি আমার জন্য কিচ্ছু করো নাই” টাইপের কথা বলেন না তারা এই ক্ষেত্রে অন্তত ভালো। আর এই ক্ষেত্রে যারা ভালো তাদের জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। কারণ এই দুটি অপরাধ শুধু নারীরা করে আর এই দুটি অপরাধ তাদেরকে বেশি জাহান্নামে নিয়ে যাবে।
পুরুষরা সবাই মহান, তাদের মধ্যে কোনো দোষ নাই, আমি সে কথা বলছিও না, সে দাবীও করছি না, সে দাবী যথার্থও নয় বরং অবাস্তব ও অসত্য। পুরুষদের খারাপ গুণ নিয়ে আগেও লিখেছি, আগামীতেও লেখা যাবে। আপাতত এই লেখার বিষয় নারীদের “মধুর আপ্তবাক্য”—“তুমি আমার জন্য জীবনে কিছুই করো নাই, আমি কিছুই তোমার কাছ থেকে পাই নাই, আমি তোমার কাছ থেকে একদিনও ভালো আচরণ পাইলাম না”
সবার শেষে, বোনদের প্রতি নসীহত, স্বামীদের অবদান অস্বীকার করা বন্ধ করুন, তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিন, কৃতজ্ঞতা জানান। এতে আপনার স্বামীর লাভ যতটা তার চেয়ে বেশি লাভ আপনার। একটু ভেবে দেখবেন কি?
No comments:
Post a Comment